Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ ইসলামগ্রহণ করার পর গোসল করা

بَابُ الاِغْتِسَالِ إِذَا أَسْلَمَ، وَرَبْطِ الأَسِيرِ أَيْضًا فِي الْمَسْجِدِ وَكَانَ شُرَيْحٌ يَأْمُرُ الْغَرِيمَ أَنْ يُحْبَسَ إِلَى سَارِيَةِ الْمَسْجِدِ

পরিচ্ছেদ: ইসলামগ্রহণ করার পর গোসল করা এবং কয়েদীকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা প্রসঙ্গে

হযরত শুরাইহ (র.) ঋণগ্রহিতাকে মসজিদে বেঁধে রাখার নির্দেশ দিতেন

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَيْلاً قِبَلَ نَجْدٍ، فَجَاءَتْ بِرَجُلٍ مِنْ بَنِي حَنِيفَةَ يُقَالُ لَهُ ثُمَامَةُ بْنُ أُثَالٍ، فَرَبَطُوهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ، فَخَرَجَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ أَطْلِقُوا ثُمَامَةَ ‏"‏‏.‏ فَانْطَلَقَ إِلَى نَخْلٍ قَرِيبٍ مِنَ الْمَسْجِدِ، فَاغْتَسَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) একরাতে কতক অশ্বারোহীকে নজদের দিকে প্রেরণ করেন। তারা হানিফা গোত্রের ছুমামা ইবনে উছাল নামক একজন লোককে ধরে আনলো। লোকেরা তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলো। তারপর আল্লাহর নবী (সা.) তার কাছে এলেন। তিনি বললেন, ছুমামাকে ছেড়ে দাও। ছাড়া পেয়ে সে মসজিদের কাছেই একটি খেজুর গাছের দিকে গেল। তারপর গোসল করে মসজিদে প্রবেশ করলো এবং বললো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর রাসূল।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের দুটি অংশ রয়েছে। ১. اغتسال الكافر اذا اسلم ২. ربط الاسير সুতরাং প্রথম অংশের সাথে মিল হলো- دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ-এর সাথে। কারণ, ছুমামা (রা.) এ গোসল ইসলামগ্রহণের জন্যই করেছিলেন। আর দ্বিতীয় অংশের সাথে মিল হলো فَرَبَطُوهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ-এর সাথে।

কোনো কোনো কপিতে এখানে باب بلا ترجمة শিরোনামহীন পরিচ্ছেদ রয়েছে-আল্লামা আইনী (র.) বলেন, এটিই সঠিক। তখন এটি পূর্বের বাবের فصلসদৃশ হবে। তখন আর কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হবে না। আবার কোনো কপিতে-باب الاغتسال اذا اسلم রয়েছে। তখনও শিরোনাম বারংবারের অভিযোগ উত্থাপিত হবে না।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো কয়েদীকে মসজিদে বেঁধে রাখার বৈধতা প্রমাণ করা; যেহেতু নবী করীম (সা.)-এর যুগে নিয়মতান্ত্রিক জেলখানা ছিল না, তাই মসজিদেই আসামীদেরকে বন্দী করা হতো।

অথবা এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো ইসলামগ্রহণকালে গোসল করা বিধান প্রমাণ করা, আর কয়েদীকে বেঁধে রাখার বিষয়টি আনুসঙ্গিকভাবে এনেছেন।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৬৬৬, ৬৭, ৩২৬-৩২৭, ৬২৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

فَاغْتَسَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ :  ইসলামগ্রহণকালে গোসলের বিধান:

১.    ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (র.)-এর মতে গোসল করা ওয়াজিব। চাই ইসলামের পূর্বে গোসল ফরজ হয়ে থাক অথবা ইসলামগ্রহণের পূর্বে গোসল করুক বা না করুক। সর্বাবস্থায় ইসলামগ্রহণের পর গোসল করা ফরজ।

২.    ইমামত্রয়ের মতে যদি গোসল ওয়াজিবকারী কোনো পাওয়া যায়- যেমন স্বপ্নদোষ, স্ত্রী-সঙ্গম এবং মহিলাদের জন্য হায়েয-নেফাস হতে পবিত্র হওয়া, তখন গোসল করা ফরজ। নতুবা মোস্তাহাব।

৩.    যদি ইসলামগ্রহণের পূর্বে গোসল ফরজ হয়ে থাকে এবং কুফরী অবস্থাতেই গোসল করে নেয়, তাহলে হানাফীদের নিকট গোসল গ্রহণযোগ্য হবে, পরবর্তীতে আর গোসল করতে হবে না। কারণ, তাদের মতে অজু ও গোসলের জন্য নিয়ত শর্ত নয়। পক্ষান্তরে শাফেয়ী প্রমুখের মতে অজু ও গোসলের জন্য নিয়ত শর্ত। তাই ইসলামগ্রহণের পর গোসল আবশ্যক। এবং কুফুরী অবস্থার গোসল গ্রহণযোগ্য হবে না।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.